শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে দীর্ঘ কারাবাস শেষে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই জামিন আদেশ প্রদান করেন।

আদালতে খায়রুল হকের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সাঈদ আহমেদ রাজা এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

সাত মামলার পর নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’
আইনজীবীরা জানান, গত ২৩ মে পৃথক সাতটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি। কিন্তু কারামুক্তির আগেই নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো (শোন অ্যারেস্ট) হয়। এর আগে গত ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম খলিল এই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। আজকের জামিনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সবকটি মামলায় জামিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

যাত্রাবাড়ীর খোয়াইব হত্যা মামলার বিবরণ
মামলার এজহার ও বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পদচারী-সেতুর (ফুটওভার ব্রিজ) নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন খোয়াইব নামের এক তরুণ। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা একটি বিশাল মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন।

নথি অনুযায়ী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্য শীর্ষ আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ-র‍্যাবসহ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত ও নির্বিচার গুলি চালায়। এতে বুকে গুলি লেগে গুরুতর আহত হন খোয়াইব। উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার পটভূমি:
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির ব্যক্তিগত বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট একে একে মোট আটটি ভিন্ন ভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।