শিরোনাম:
আজ বিশ্ব চিঠি দিবস: ডিজিটাল ব্যস্ততায় হারাচ্ছে চিঠির ঐতিহ্য ও অনুভূতি

ফাইল ছবি
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১০
নিউজ ডেস্ক
একসময় দূরত্ব পেরিয়ে মানুষের কাছে মানুষের অনুভূতি পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। প্রিয়জনের হাতের লেখা কয়েকটি শব্দ পাওয়ার অপেক্ষায় কেটে যেত দীর্ঘ সময়। ডাকপিয়নের হাতে আসা একটি খামেই যেন মিলত দূরদেশে থাকা আপনজনের ভালোবাসা, অভিমান, আনন্দ কিংবা অপেক্ষার খবর।
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে ই-মেইল, মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই দীর্ঘ অপেক্ষার জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে। তবুও হাতে লেখা চিঠির আবেগ, ব্যক্তিগত স্পর্শ ও আবেদন এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
প্রতি বছর ১ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস। ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে হাতে লেখা চিঠির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেওয়াই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। অস্ট্রেলীয় লেখক, শিল্পী ও আলোকচিত্রী রিচার্ড সিম্পকিন এ দিবসের প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে সিম্পকিন অস্ট্রেলিয়ার যেসব মানুষকে নিজের কাছে ‘লিজেন্ড’ মনে করতেন, তাদের উদ্দেশে হাতে লেখা চিঠি পাঠানো শুরু করেন। তার পাঠানো চিঠির জবাবও অনেকের কাছ থেকে ফিরে আসে। এই অভিজ্ঞতা তাকে হাতে লেখা চিঠির আবেগ, ব্যক্তিগত স্পর্শ ও বিশেষ মূল্য সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে তিনি বিশ্ব চিঠি লেখা দিবসের সূচনা করেন।
চিঠিতে মিশে থাকে ব্যক্তিগত অনুভূতি
হাতে লেখা চিঠির গুরুত্ব শুধু তথ্য আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে মিশে থাকে লেখকের ব্যক্তিত্ব ও অনুভূতির ছাপ। হাতের লেখা, শব্দের ব্যবহার এবং মনের কথা প্রকাশের ধরন—সবকিছু মিলিয়ে প্রতিটি চিঠিই হয়ে ওঠে স্বতন্ত্র।
মুহূর্তের মধ্যে পাঠানো একটি ডিজিটাল বার্তা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু বহু বছর পর একটি পুরোনো চিঠি হাতে নিলেও তা ফিরিয়ে আনতে পারে অতীতের নানা স্মৃতি ও অনুভূতি। তাই চিঠি অনেকের কাছেই কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং স্মৃতি ধরে রাখার এক মূল্যবান দলিল।
কলম-কাগজে ফিরুক অনুভূতির প্রকাশ
বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস উপলক্ষে মানুষকে কিছু সময়ের জন্য ডিজিটাল পর্দা থেকে দূরে গিয়ে কলম ও কাগজ হাতে নেওয়ার উৎসাহ দেওয়া হয়। চিঠি লেখা যেতে পারে বাবা-মা, পুরোনো বন্ধু, প্রিয়জন কিংবা দীর্ঘদিন যোগাযোগহীন কোনো মানুষের কাছে।
প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য গতি। অন্যদিকে চিঠির সৌন্দর্য অনেকটাই তার ধীরগতির প্রক্রিয়ায়। একটি চিঠি লিখতে হলে নিজের অনুভূতি নিয়ে ভাবতে হয়, মনের কথাগুলো গুছিয়ে শব্দে প্রকাশ করতে হয় এবং লেখার জন্য সময় দিতে হয়।
এ কারণেই দ্রুতগতির ডিজিটাল যুগেও হাতে লেখা চিঠি সম্পর্ক, স্মৃতি ও আবেগ সংরক্ষণের এক অনন্য মাধ্যম হিসেবে টিকে আছে। বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস সেই হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—কখনো কখনো কয়েকটি হাতে লেখা শব্দও মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।









