মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

বলিউড তারকা অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের প্রেমের গল্পে ভারতের জয়পুরের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের জীবনের সঙ্গে শহরটির সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে সেই স্মৃতির কথাই জানিয়েছেন অভিষেক।

২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেকের যাত্রা শুরু হয়। সিনেমাটির মূল শুটিং হয়েছিল গুজরাটের কচ্ছ এলাকায়। তবে জয়পুর ও মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতেও সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশের শুটিং হয়েছিল।

অভিষেকের ব্যক্তিগত জীবনেও জয়পুরের আলাদা আবেগ রয়েছে। ২০০৬ সালে ‘উমরাও জান’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার সম্পর্ক তৈরি হয়। সিনেমাটির কিছু অংশের শুটিং হয়েছিল জয়পুরে।

পরে ২০১৪ সালে ব্যবসায়ী হিসেবে প্রো-কাবাডি লিগের প্রথম মৌসুমের আগে জয়পুর দল কিনে নেন অভিষেক। এত শহর থাকতে জয়পুরকেই কেন বেছে নিয়েছিলেন—পডকাস্টে সেই কারণও জানান তিনি।

অভিষেকের ভাষ্য, তার প্রথম সিনেমা ‘রিফিউজি’র একটি অংশের শুটিং জয়পুরে হয়েছিল। তাই নতুন কিছু শুরু করার ক্ষেত্রে শহরটিকে তার কাছে শুভ মনে হয়।

মেয়ের পছন্দ থেকেই ‘পিংক প্যান্থার্স’

শুধু দল কেনার ক্ষেত্রেই নয়, দলের নামকরণেও পরিবারের ছোঁয়া রেখেছিলেন অভিষেক।

তার মালিকানাধীন কাবাডি দলের নাম ‘জয়পুর পিংক প্যান্থার্স’। এই নামের পেছনেও রয়েছে মেয়ে আরাধ্যার পছন্দ। সে সময় আরাধ্যার প্রিয় রং ছিল গোলাপি। মেয়ের পছন্দের কথা মাথায় রেখেই দলের নামে ‘পিংক’ যুক্ত করেছিলেন অভিষেক।

২০১১ সালে অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার কন্যা আরাধ্যার জন্ম হয়।

একসঙ্গে কাজ থেকে প্রেম, তারপর বিয়ে

অভিষেক ও ঐশ্বরিয়া প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন ২০০০ সালের ‘ঢাই অক্ষর প্রেম কে’ সিনেমায়। এরপর ২০০৩ সালে ‘কুছ না কহো’ সিনেমায় আবারও জুটি বাঁধেন তারা।

২০০৫ সালে ‘বান্টি অউর বাবলি’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘কাজরা রে’-তে একসঙ্গে দেখা যায় অভিষেক, ঐশ্বরিয়া ও অমিতাভ বচ্চনকে।

এরপর ২০০৬ সালে ‘উমরাও জান’ ও ‘ধুম ২’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া। পরে মণি রত্নমের ‘গুরু’ সিনেমায়ও জুটি বাঁধেন তারা।

‘গুরু’ মুক্তির আগেই তাদের বাগদানের খবর প্রকাশ্যে আসে। এরপর ২০০৭ সালে বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্ককে পরিণতি দেন এই তারকা জুটি।

দাম্পত্য জীবনের ১৯ বছর পার করেছেন অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। অভিষেক বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে নিজের ‘আত্মার সঙ্গী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। তাদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্ত্রীকে প্রতিদিন তিনবার ‘সরি’ বলার মজার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।