শিরোনাম:
খালের ঘাটের ওপর দোকান বরাদ্দ চান ধনাঢ্য বিএনপি নেতা!

ফাইল ছবি
০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন খবর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি খালের ওপর পাকা ঘাটের জায়গায় দোকান বরাদ্দ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছেন এক স্থানীয় বিএনপি নেতা। আবেদনপত্রে নিজেকে ‘অসহায় ও প্রবাস ফেরত’ বলে উল্লেখ করলেও বাস্তবে তিনি এলাকার একজন বেশ প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আবেদনকারী মো. ছায়েদুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
প্রবাস ফেরত ‘অসহায়’ পরিচয়, বাস্তবে ৩ তলা বাড়ির মালিক
ইউএনওর কাছে দেওয়া আবেদনে ছায়েদুল হক দাবি করেন, তিনি একজন বয়োবৃদ্ধ, প্রবাস ফেরত ও অসহায় মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য চিনাইর বাজারের খালের পাড়ে একটি দোকান বরাদ্দ দিলে তিনি তা চালিয়ে জীবনধারণ করতে পারবেন।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, ছায়েদুল হকের এই ‘অসহায়ত্ব’ পুরোটাই লোক দেখানো। স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নিজ গ্রাম চিনাইরেই তাঁর একটি বিলাসবহুল ৩ তলা বাসাবাড়ি রয়েছে। এছাড়া চিনাইর বাজারে ইতিমধ্যেই তাঁর একাধিক দোকানভিটা রয়েছে। এলাকায় ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এই নেতা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই জীবনযাপন করছেন।
সরকারি খালের পাকা ঘাটে দোকান বরাদ্দের সুপারিশ
মাছিহাতা ইউনিয়নের আটলা ভূমি অফিস থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আবেদিত জায়গাটি সরকারি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত খালের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত একটি পাকা ঘাটলা, যা বর্তমানে নেট দিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। জায়গাটি পেরিফেরিভুক্ত (বাজারের নির্ধারিত অংশ) না হওয়া সত্ত্বেও এবং এটি সরকারি খালের ওপর পাকা ঘাট হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে—“আবেদনকারী বয়োবৃদ্ধ, প্রবাস ফেরত অসহায় মানুষ এবং পরিবার নিয়ে চলার স্বার্থে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।”
প্রতিবেদনের বিষয়ে মাছিহাতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. আবুল খায়ের জানান, সরেজমিন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনটির তদন্ত প্রতিবেদন তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন।
‘দুনিয়ার সবাই তো অসহায়’: বিএনপি নেতার সাফাই
অভিযোগ ও দ্বৈত তথ্যের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএনপি নেতা মো. ছায়েদুল হক তাঁর অবস্থানের পক্ষে অদ্ভুত সাফাই গান। তিনি বলেন:
“খালের পাড়ের ওই পাকা ঘাটটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, কারও কোনো কাজে আসছে না। তাই ভাবলাম সেখানে একটি দোকান দিয়ে ব্যবসা করি—এই ভেবে নিয়ম মেনেই আবেদন করেছি। আর বাজারে আমার অন্যান্য দোকান রয়েছে—কথাটি সত্যি। কিন্তু অসহায়ের কথা বলছেন? এই দুনিয়ায় তো আল্লাহর কাছে আমরা সবাই অসহায়!”
সরকারি খাল ও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের ঘাট দখল করে দোকান নির্মাণের এমন তৎপরতা বন্ধে এবং পক্ষপাতমূলক তদন্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।









