রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই ফুটবল মাঠের ভেতরের লড়াই ছাপিয়ে বাইরেও এক বাড়তি উত্তেজনা। ইতিহাস, ভূরাজনীতি আর দীর্ঘদিনের মাঠের বৈরিতা ঘিরে এই দুই পরাশক্তির লড়াইকে ঘিরে সবসময়ই এক আলাদা আবহ তৈরি হয়। তবে আগামী বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মেগা ম্যাচের আগে সেই উত্তাপ কিছুটা কমানোরই চেষ্টা করলেন ইংল্যান্ডের এক নম্বর গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির সুরেই তিনি জানালেন, এটি তাঁদের কাছে ‘স্রেফ আরেকটি ফুটবল ম্যাচ’।

ম্যাচ-পূর্ব অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে পিকফোর্ড বলেন, “আমরা সবাই জানি মেসি কতটা অসাধারণ এবং বিশ্বমানের ফুটবলার। একই সঙ্গে আমরা এটাও ভালো করে জানি যে আর্জেন্টিনা দল হিসেবে কতটা শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ। তবে এটি শুধু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোনো বিশেষ ম্যাচ নয়, বরং বিশ্বকাপের সেরা চার দলের মধ্যকার একটি সেমিফাইনাল। দুই দলেরই অত্যন্ত আবেগপ্রবণ সমর্থক রয়েছে, যা মাঠে বাড়তি রোমাঞ্চ যোগ করবে।”

ডিবু মার্তিনেজের পুরনো স্মৃতি ও ভূয়সী প্রশংসা
আর্জেন্টিনার বাজপাখি খ্যাত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজের প্রশংসা করতে গিয়ে পিকফোর্ড তাঁদের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করেন। ইংলিশ এই গোলরক্ষক বলেন:

“ডিবুর বিপক্ষে আমি অনেক আগে খেলেছি, যখন সে ওলভারহ্যাম্পটনে (Wolverhampton) লোনে ছিল আর আমি খেলতাম প্রেস্টন নর্থ এন্ডে (Preston North End)। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকে সে নিজেকে দারুণভাবে প্রমাণ করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের জাত চিনিয়েছে। নিঃসন্দেহে সে একজন টপ-ক্ল্যাস গোলরক্ষক।”

‘পেনাল্টি মিসের পরও মেসি ভয় পাবে না’
চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে দুটি পেনাল্টি মিস করা লিওনেল মেসি সেমিফাইনালে টাইব্রেকার বা পেনাল্টি শুট-আউটের মুখোমুখি হলে আবারও স্পট-কিক নিতে ভয় পাবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন এক মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নের জবাবে পিকফোর্ড অত্যন্ত পেশাদার জবাব দেন।

তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না পূর্বের মিসের কারণে মেসি এবার পেনাল্টি নিতে বিন্দুমাত্র ভয় পাবে। সবাই সবসময় মেসিকে নিয়েই কথা বলে, কারণ সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী ফুটবলার। তবে আমাদের শুধু মেসিকে নিয়ে ভাবলে চলবে না, আমাদের নিজেদের দল, রণকৌশল এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের দিকেই শতভাগ মনোযোগ দিতে হবে।”

বুধবারের এই হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালকে ঘিরে ফুটবল বিশ্ব যখন দুই ভাগে বিভক্ত, তখন ইংলিশ গোলরক্ষকের এমন সংযত ও সমীহ জাগানিয়া বক্তব্য ম্যাচটিকে আরও বেশি মর্যাদাশীল করে তুলল। এখন দেখার বিষয়, আটলান্টার মাঠে পিকফোর্ড-মেসির এই দ্বৈরথে শেষ হাসি কে হাসে।