বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সুযোগ না পাওয়ায় এখন তাদের নেতাকর্মীদের সৎ মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্লা দিয়ে অপকর্মে জড়ানোর অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।

পোস্টে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে এনসিপির নেতাকর্মী ও সমন্বয়কদের দাপট দেখা গেছে। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে তাদের নেতাদের নানা কর্মকাণ্ডের খবর এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন বলেন, শহীদ ওসমান হাদী এনসিপির তিনটি অপরাধ চিহ্নিত করেছিলেন—জুলাই ঐক্য বিনষ্ট করা, আওয়ামী লীগের ৭১ কুক্ষিগত করার মতো এনসিপির জুলাইকে কুক্ষিগত করা এবং দুর্নীতি করা। তবে বর্তমানে এসব বিষয় আর আগের মতো পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দল থেকে বিরোধী দলে যাওয়ার পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা আর অপকর্ম করার সুযোগ পাচ্ছে না। যখন-তখন সচিবালয়ে কিংবা সচিবের রুমে ঢুকে যাওয়াও করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সুযোগের অভাবে তাদের সৎ মনে হচ্ছে। এটা অবশ্যই একপ্রকার ভালো।’

তবে জামায়াত-শিবিরের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করেন রাশেদ খাঁন।

তার ভাষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের অনেক অপকর্ম গণমাধ্যমে আসেনি। কিন্তু বর্তমানে পাল্লা দিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা অপকর্মে জড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, অনেকে এমন মন্তব্য করছেন যে, সরকারি দলের লোকজন যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করার কথা, সেখানে প্রধান বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় যারা এমন বেপরোয়া হতে পারেন, তারা ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগকেও হার মানাবেন—এমন কথাও অনেকে লিখছেন। তবে তিনি নিজে এমন মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান।

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শুধু এতোটুকুই বলবো, সবার সহনশীল হওয়া উচিত। সবাই মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে।’

একই সঙ্গে সরকারি দলের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও ছয় মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের মাধ্যমে দেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।