শিরোনাম:
‘সন্ত্রাসী পরিবেশে’ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালন অসম্ভব: এমপি মুজিবুর

ফাইল ছবি
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৬
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি খবর
ডিও লেটার বাতিল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি নিয়োগে বাধার অভিযোগ সংসদে
‘সন্ত্রাসী পরিবেশে’ জনপ্রতিনিধিদের স্বাভাবিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, সরকারদলীয় সদস্যদের প্রকাশ্য সন্ত্রাসের ভয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারাও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিশেষ অধিকার প্রশ্নে কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৪ বিধিতে দেওয়া দুটি পৃথক লিখিত নোটিশে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনের বৈঠক শুরু হয়।
শতাধিক ডিও লেটার বাতিলের অভিযোগ
সংসদে ডেপুটি স্পিকারের উপস্থাপিত বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম নোটিশে মুজিবুর রহমান বলেন, সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে তাঁর নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য দেওয়া প্রায় শতাধিক ডিও লেটার সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, এসব সুপারিশ বাতিল করে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উন্নয়নকাজগুলো নেওয়া হয়েছে।
মুজিবুর রহমান জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তাঁকে জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের ‘সবুজ সংকেত’ ও ডিও লেটার ছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, সরকারি দলের ক্যাডারদের সন্ত্রাসের ভয়ে কর্মকর্তারা কোনো কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না। এমন ভীতিকর পরিবেশে সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার দায়িত্ব পালনও অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধিকারবঞ্চিত জনপ্রতিনিধিদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে সংসদের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।
শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি নিয়োগেও বাধার অভিযোগ
দ্বিতীয় নোটিশে মুজিবুর রহমান বলেন, প্রচলিত নিয়ম ও সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়োগের জন্য নিজস্ব প্যাডে সুপারিশপত্র দিয়ে আসছেন।
এর ধারাবাহিকতায় রাজশাহী-১ আসনের গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার প্রায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি মনোনয়নের জন্য তিনি লিখিত ডিও লেটার জমা দিয়েছিলেন।
তবে স্থানীয় সন্ত্রাসী প্রভাবের কারণে এখন পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানেও তাঁর সুপারিশ অনুযায়ী সভাপতি নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‘উভয় জনপ্রতিনিধির সমান অধিকার’
নোটিশ দুটির বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, উত্থাপিত দুটি নোটিশের বিষয়বস্তু প্রায় একই ধরনের।
তিনি বলেন, সংসদীয় এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া প্রতিটি জনপ্রতিনিধির অন্যতম দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত—উভয় আসনের সংসদ সদস্যেরই ভূমিকা রাখার সমান অধিকার রয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, সংসদীয় এলাকার দুই সংসদ সদস্যই যেন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমানভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট থাকবে।
একই এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধিকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দিয়ে অন্যজনকে গুরুত্বহীন করে তোলা না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।









