রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এ ঘোষণাকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত এক মাসে সারা দেশে ৫৩ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১০ হাজার মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় নিয়মিত অভিযানে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির অভিযানে ৪৬৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন এবং ৭৩টি মামলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ, পঞ্চগড়, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নেতাদের গ্রেফতারের তথ্য এসেছে। তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের মামলা রয়েছে বা কোন অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তা মামলাভেদে ভিন্ন।

ডিসেম্বর ঘিরে পুলিশের সতর্কতা

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড হতে না দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডিবিপ্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক অতিরিক্ত আইজিপির ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মগোপনে থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। ডিসেম্বরের আগেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা ঠেকাতে সাইবার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ

আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তার এ ঘোষণার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার কৌশল; আবার অন্যদের মতে, ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি একটি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে শুধু মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, এর সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের আকাঙ্ক্ষা ও দেশে ফেরার তাগিদও থাকতে পারে। একই সঙ্গে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা হঠাৎ মাঠে নামলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, সমঝোতা ছাড়া প্রত্যাবর্তন ও তা ঠেকানোর চেষ্টা থেকে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার মতে, শুধু ব্যাপক গ্রেফতারের বদলে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মূল উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এদিকে ব্যাপক গ্রেফতারের কারণে কারাগারের ধারণক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা বলা হলেও, পরিস্থিতি কী দিকে যাবে তা রাজনৈতিক ও আইনগত developments-এর ওপর নির্ভর করছে।