রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

তিন বছর পর আবারও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ ও ভারত। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে দুই দেশের ১৬তম জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেড (জেডব্লিউজি) বৈঠক। দুই দিনব্যাপী এ বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা, রপ্তানি বাড়ানো, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, জুটপণ্যে ভারতের আরোপিত শুল্ক এবং স্থলবন্দরসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য, রেলপথ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

এর আগে ১৫তম জেডব্লিউজি বৈঠক ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ, পণ্য সরবরাহ, মান নির্ধারণ ও পারস্পরিক স্বীকৃতি, সড়ক-রেল যোগাযোগ এবং প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) নিয়ে আলোচনা হয়।

জুটপণ্যে শুল্ক, বাণিজ্য বাধা আলোচনায়

এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ ভারতের জুটপণ্যে নতুন করে নির্ধারিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা জুট ইয়ার্ন/টুইন, হেসিয়ান ফ্যাব্রিক, জুট স্যাকিং ব্যাগ ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর শুল্ক কাঠামো সংশোধন করা হয়েছে। কিছু বাংলাদেশি উৎপাদকের ক্ষেত্রে শুল্কের হার আলাদা হলেও নির্দিষ্ট উৎপাদক তালিকার বাইরে থাকা জুট ইয়ার্ন/টুইনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শুল্ক টনপ্রতি ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা, স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনা, রেলপথে পণ্য পরিবহন এবং দুই দেশের মধ্যে পণ্যের স্বাভাবিক চলাচলের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

বড় বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের উদ্বেগ

দুই দেশের বাণিজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের বড় ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় ১০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবধান প্রায় ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সম্প্রসারণ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো এবং স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন সহজ করার বিষয়গুলোতে জোর দিতে পারে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩৩৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি।

সেপা নিয়েও আলোচনা এগোনোর সুযোগ

তিন বছর পর জেডব্লিউজি বৈঠক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা সেপা নিয়েও নতুন করে অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের শিল্পে ভারতের কাঁচামাল, তুলা, সুতা ও বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ; একই সঙ্গে ভারতের বাজারেও বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে জেডব্লিউজি মূলত আলোচনার প্ল্যাটফর্ম—এখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যসংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজাই প্রধান লক্ষ্য।