শিরোনাম:
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার, গ্রেফতার ২

ফাইল ছবি
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১২
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় খবর
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকায় এক যুবককে বিদেশে পাঠানোর পর মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার, সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।
সিআইডি জানায়, নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ভুক্তভোগী যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সংস্পর্শে আসেন। পরে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে পাঠানোর চুক্তি করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে তিনি অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। ৭ এপ্রিল তাকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন আটকে রাখার পর বিভিন্ন অজুহাতে তার পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে তাকে মিশরের কায়রোতে পাঠানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখে। পরে পূর্বের চুক্তির কথা বলে আরও ৬ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। নগদ টাকা, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
এরপর গাড়িতে করে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত পেরিয়ে তাকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যদের সঙ্গে ওই যুবককেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। তাকে মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
দেশে ফিরে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। সিআইডি মামলাটির তদন্তভার নেওয়ার পর তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।









