শিরোনাম:
চট্টগ্রামে চোর সন্দেহে পিটিয়ে ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে যুবককে হত্যা, আটক ২

ফাইল ছবি
২১ জুন ২০২৬, ১১:০৩
নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড এলাকায় চোর সন্দেহে জয়নাল (২৮) নামে এক যুবককে রাতভর অমানুষিক মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একটি স্কুলের দুই নিরাপত্তা কর্মীর বিরুদ্ধে। নির্মম এই নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই যুবকের মৃত্যু হলে লাশ স্কুলের মাঠেই ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে আজ রোববার (২১ জুন) সকালে নগরীর পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। একই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে স্কুলের দুই নিরাপত্তাকর্মীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে জয়নাল নামের ওই যুবক কোনো কারণে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করলে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে চোর সন্দেহে ধরে আটকে রাখে। এরপর কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে তারা নিজেরাই আইন হাতে তুলে নেয় এবং জয়নালকে নির্মমভাবে কিল-ঘুসি মারার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের শক দিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। রাতভর চলা এই বর্বর নির্যাতনের একপর্যায়ে জয়নালের মৃত্যু হয়। আজ সকালে স্কুলের ভেতরে যুবকের লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
লাশ উদ্ধার ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ওই যুবকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।
তবে চোর সন্দেহে পিটিয়ে ও শক দিয়ে হত্যার এই নৃশংস অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।
মামলা দায়ের ও গ্রেফতার
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন,
“এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত জয়নালের মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মেলায় আটককৃত স্কুলের দুই নিরাপত্তাকর্মীকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে। ঘটনার সাথে অন্য কারো ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




