মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

যশোরের বাঁওড়ে বিএনপি নেতার ছেলের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার

ফাইল ছবি

২১ জুন ২০২৬, ১১:০০

নিউজ ডেস্ক

facebook sharing button
twitter sharing button
sharethis sharing button
whatsapp sharing button

যশোরের চৌগাছায় একটি বাঁওড় থেকে আতিয়ার রহমান (৪২) নামে এক বিএনপি নেতার ছেলের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার (২১ জুন) বিকালে চৌগাছা উপজেলার বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের সিংহঝুলী ইউনিয়নের একটি খালে ভাসমান অবস্থা থেকে তাঁর লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওসমান (৩০) নামে এক যুবককে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত আতিয়ার রহমান উপজেলার চৌগাছার লস্কারপুর গ্রামের ছবেদ আলীর ছেলে। তাঁর বাবা ছবেদ আলী চৌগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির একজন নির্বাহী সদস্য। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও আতিয়ার বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ে পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং পাশাপাশি বাঁওড়ের পাশে থাকা নিজের একটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে কৃষি ও সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

নিখোঁজের পর কচুরিপানার নিচে মিলল লাশ
নিহতের বাবা বিএনপি নেতা ছবেদ আলী জানান, আতিয়ার প্রতিদিন সকালে কাজ শেষে বাড়িতে ফিরলেও আজ রোববার ফেরেননি। সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরবর্তীতে বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে আতিয়ারের ভাতিজা হাসান (২৬) বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের ক্যানেলের কচুরিপানার নিচে পানিতে একটি লাশ ভাসতে দেখে। এ সময় তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লাশটি আতিয়ারের বলে শনাক্ত করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে চৌগাছা থানা পুলিশকে খবর দেন।

সন্দেহভাজনকে গণপিটুনি:
লাশ উদ্ধারের পর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ফতেপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে ওসমান আলীকে (৩০) ধরে গণপিটুনি দেন নিহতের ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ওসমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

মাছ চুরির বিরোধে হত্যাকাণ্ড: ধারণা পুলিশের
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “নিহত আতিয়ার রহমান একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই বাঁওড় পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাঁওড় থেকে মাছ চুরির কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে চোর বা প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।”

ওসি আরও জানান, পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আটকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।