শিরোনাম:
ভৈরবে সাবেক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

ফাইল ছবি
২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি খবর
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাবেক পৌর সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন সৈকত (৪৫) দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। নিহতের স্ত্রী ও মায়ের অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তার চাচাতো ভাইসহ কয়েকজন তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল-আমিন ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ভৈরব বাজারের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার মৃত জসীম মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে আল-আমিন তার আবাসিক হোটেলের অফিস থেকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক কোপ দেওয়ার পাশাপাশি পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।
পরে পথচারী ও তার স্ত্রী তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত দেড়টার দিকে গাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। এ সময় আল-আমিন তাকে ভাত প্রস্তুত রাখতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর একজন এসে জানান, তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তানিয়ার দাবি, আহত অবস্থায় আল-আমিন তাকে জানান, তার চাচাতো ভাই জুম্মন, হাসানসহ তিন-চারজন তাকে কুপিয়ে আহত করেছেন। এ ঘটনায় চাচা মমিন মিয়া এবং চাচাতো ভাই রৌদ্র ওরফে বাবুও জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাদের সঙ্গে আল-আমিনের দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল বলেও জানান তিনি।
নিহতের মা মিনা বেগমও একই অভিযোগ করে বলেন, জুম্মন, হাসান, রৌদ্র ও তাদের বাবা মমিন তার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
তবে নিহতের বন্ধু তমাল আহমেদ বলেন, রোববার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারা আল-আমিনের আবাসিক হোটেলে একসঙ্গে ছিলেন। পরে তিনি বাসায় চলে যান। এরপর আল-আমিন মোটরসাইকেলে করে বাসায় যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আল-আমিনের ওপর হামলার খবর রাতেই পাওয়া যায়। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে পুলিশ।









