বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন খাঁটি ও সৎ রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং এই পরম সততাই ছিল তাঁর রাজনীতির সবচেয়ে বড় ‘ইউএসপি’ (Unique Selling Proposition) বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক আলোচনা সভায় তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক পথচলা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিকাশের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন।

জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও সততার স্থান
আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, সাধারণ মানুষ লোকদেখানো ভান ও আসলের পার্থক্য খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারে। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তিগুলো ছিল:

নিখাদ সততা: ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের দিকে যখন একদিকে দেশব্যাপী চরম দুর্ভিক্ষ ও অন্যদিকে ক্ষমতার অপব্যবহার চলছিল, তখন সাধারণ মানুষ জিয়াউর রহমানের মাঝে এক বিরল সততার সন্ধান পায়।

স্বজনপ্রীতিহীন রাষ্ট্র পরিচালন: জনগণ বিশ্বাস করতো তিনি স্বজনপ্রীতি করবেন না বা স্ত্রী-সন্তানদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে সম্পদ কিংবা বাড়ির পাহাড় গড়বেন না। এই বিশ্বাসই তাঁকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দেয়।

মেধাবীদের সম্মিলন: নিজের রাজনৈতিক দল ও মন্ত্রিসভায় যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের খুঁজে এনে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকার
বিএনপির বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, তারেক রহমান রাতারাতি বা কেবল জিয়াউর রহমানের সন্তান হওয়ার সুবাদে শীর্ষে উঠে আসেননি।

তৃণমূল থেকে উত্থান: মাত্র ১৮-২০ বছর বয়সে দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে তিনি রাজনীতি শুরু করেন। মাঠপর্যায়ে কাজ করে পর্যায়ক্রমে যুগ্ম মহাসচিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উত্তরাধিকার ও বাস্তবতা: রাজনীতিতে পারিবারিক উত্তরাধিকারের ছোঁয়া থাকা স্বাভাবিক হলেও, কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়া হঠাৎ এসে দলের শীর্ষ পদ দখল করার মতো ঘটনা তাঁর ক্ষেত্রে ঘটেনি।

খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক ভাবমূর্তি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি বলেন:

“মানুষ সত্য ও ভানের তফাত বোঝে। বেগম জিয়া যা বিশ্বাস করেছেন, তাই বলেছেন এবং যা বলেছেন, তা-ই করেছেন। তিনি চাইলে বহুবার ক্ষমতার সঙ্গে আপস করে আরাম-আয়াসের জীবন বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি আপস না করে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন এবং নিজের ‘আপসহীন’ ভাবমূর্তি আমৃত্যু সমুন্নত রেখেছেন।”