রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

“বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে মানুষের হাতে বিদ্যুতের পরিবর্তে হারিকেন ও মোমবাতি ধরিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা সবাই বিদ্যুৎ নিয়ে প্রোপাগান্ডা করেছি; তখন মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ যেত, আর এখন বিদ্যুৎ যায় না—মাঝে মাঝে আসে,” বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি।

তিনি আরও বলেন, “বিদ্যুৎমন্ত্রী সংসদের এসি রুমে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেন। তিনি বলেন—বিদ্যুৎ নাকি যায় না। আমি বলবো—বাসা, অফিস, গাড়ি ও সংসদের এসি রুমে থেকে বিদ্যুতের খবর জানা যাবে না। এসি রুম থেকে বেরিয়ে আসুন। এখনো দেশ মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত কিংবা চাঁদাবাজ মুক্ত হয়নি।”

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকালে ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভা চত্বরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘কোনো কিছুর পরিবর্তন হয়নি’
হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের বর্তমান বাজারদর ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বেকারদের সিভি নিয়ে অফিসের দরজায় দরজায় ঘুরা এখনো বন্ধ হয়নি। জিনিসপত্রের দামও কমে নাই। এ কথা সত্য যে, কেউ কেউ বলেন আমরা নাকি প্রাডো গাড়ি নিয়ে ঘুরি। তারা যখন ধানখেতে ঘুমাত, তারা যখন ঢাকা শহরে রিকশা চালাত, এখন তারা প্রাডো গাড়ি চালায়। তাদের প্রশ্ন করা উচিত—তারা এত টাকা কোথায় পেয়েছে? তারা মূলত মামলা বাণিজ্য করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে অর্থ ইনকাম করেছে। আমরা চাঁদাবাজি ও চাঁদাবাজের পরিবর্তন চেয়েছি; আমরা দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজেরও পরিবর্তন চেয়েছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো কিছুর পরিবর্তন হয়নি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “কথা ছিল সরকার চাকরি দিবে, উল্টো সমাজ ও পাড়া-মহল্লায় মাদক আর জুয়া বেড়ে গেছে। বিএনপি আগে বলত ঈদের পর আন্দোলন দেব, সেই ঈদ আর বাংলার জনগণ দেখেনি। জনগণ সেই ঈদের পরের আন্দোলনের জন্য বসে থাকেনি। জনগণ ও ছাত্র-জনতাই ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও বন্যার তহবিল
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপির মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। এদিন বিকালে পৌর শহরের জিরোপয়েন্টের শহীদ চত্বর থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরসভা চত্বরে এসে পথসভায় মিলিত হয়।

২৪-এর ভয়াবহ বন্যার সময় সংগৃহীত ১২ কোটি টাকা উত্তোলনের বিষয়ে ওঠা এক প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ পরিষ্কার করে বলেন, “আমরা দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করেছি এবং সেই ফ্রাঙ্ক টাকা সম্পূর্ণভাবে সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে দিয়েছি।”

হাতাহাতির ঘটনা ও শহীদদের কবর জিয়ারত
পথসভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাসনাত আবদুল্লাহর উপস্থিতিতেই নেতাকর্মীদের মাঝে দুই দফা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রথম দফায় সোনাগাজীতে পদযাত্রার উদ্বোধনী মঞ্চে এবং দ্বিতীয় দফায় সন্ধ্যায় ফেনী শহরে দলের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও হাতাহাতি হয়।

এর আগে, বিকালে হাসনাত আবদুল্লাহ ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের কবর এবং সোনাগাজীর শহীদ আবদুর গণি বোরহানের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও গভীর সমবেদনা জানান।

উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যৌথ আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব শেহেরিন ইরা, কেন্দ্রীয় সদস্য দিলারা খানম, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার এবং যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।