শিরোনাম:
জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

ফাইল ছবি
১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি খবর
“আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু ‘২৪’ হারিয়ে যেতে দেব না। আমরা লজ্জিত, কারণ প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক, শ্রমিক জীবন দিয়ে অর্জন এনে দেওয়ার পর কিছু লুটেরা সেই অর্জন ছিনিয়ে নেয়। আজও ২০২৪-এর অর্জন হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে,” বলে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
‘২০২৪ না হলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না’
বর্তমান সংসদ ও সরকারের বৈধতা যে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ফসল, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন:
ত্যাগের ধারাবাহিকতা: কেউ কেউ বলতে চান ২০২৪ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আগের অংশটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কখনো বলিনি আগের অংশ গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই সময়েই আমরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতা ও শত শত সহকর্মীকে হারিয়েছি।
বাস্তবতা স্বীকারের আহ্বান: তবে এটাও সত্য যে, ২০২৪ না হলে আজ আমি এখানে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমানও দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।
নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় দাবি ছিল ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে। এজন্য অতীতের পচা রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রয়োজন ছিল।
গণভোটের রায় ও বিএনপির ৩১ দফা নিয়ে কটাক্ষ
সংবিধান ও গণভোট নিয়ে প্রধান শরিক দলের নেতাদের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন:
“কেউ বলেছেন গণভোটের ৪টি প্রশ্ন এত জটিল যে বুঝতেই ৪ ঘণ্টা লাগে। আমি বলি, ৪টি প্রশ্ন যদি মানুষ বুঝতে না পারে, তবে ৩১টি প্রশ্ন (বিএনপির ৩১ দফা) কীভাবে বুঝবে? এগুলো সব গোঁজামিল ও ভাওতাবাজি। ইতোমধ্যে একজন বলেছেন, ভোটটা হয়ে যাক—তাই সবকিছু আগে মেনে নিয়েছিলাম। রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেন, তবে দেশের মানুষ যাবে কোথায়?”
তিনি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “নির্বাচনের আগে সবাই গণভোটের পক্ষে ছিলেন এবং দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। এখন বলা হচ্ছে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে, তাই ৭০ শতাংশের গণরায় মানা হবে না। আমি জানতে চাই, ৫১ বড় নাকি ৭০ বড়? ভোট কীভাবে পেয়েছেন, সেই বিতর্ক ইতিহাসে থেকেই যাবে। সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট করে কী করা হয়েছে, জনগণ তা ভালো করেই জানে।”
‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’র নামে জুলাইকে ভোলানোর চেষ্টা
সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “সংসদে আমাদের সংবিধান শেখানো হয়। আমি জানতে চাই, ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ নামে কোনো কমিটি সংবিধানের কোথাও আছে কি? যদি না থাকে, তবে এটি কেন? এটি আসলে জুলাই বিপ্লব এবং গণভোটের রায়কে ভুলিয়ে দেওয়ার একটা অপচেষ্টা। এ কারণেই আমরা পরিষ্কারভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “চিংড়ি মাছ লাফ দিলে পেছনের দিকে যায়। জাতি যদি সবসময় পেছনের দিকেই তাকিয়ে থাকে, তাহলে সামনে এগোবে কীভাবে? আসুন পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনে তাকাই এবং ২০২৪-এর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করি।”
ভারতের ‘লাল কার্ড’ নিয়ে পরোয়া করি না
প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জামায়াত আমির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অনেকেই প্রতিবেশী দেশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আমরাই একমাত্র দল, যাদের তারা পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, শুধু জামায়াতে ইসলামীর জন্য রেখেছে ‘লাল কার্ড’। কিন্তু আমরা সেই লাল কার্ডের বিন্দুমাত্র পরোয়া করি না। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তাও আমরা করি না। এই দেশই আমাদের দেশ এবং আমাদের আশ্রয়ের আসল জায়গা হলো বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তর।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সুনিপুণ সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। সভায় দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।









