শিরোনাম:
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলন: গোলাম পরওয়ার

ফাইল ছবি
১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি খবর
“বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ভুলে গিয়ে জনগণের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তাদের মুখে এক কথা, আর অন্তরে আরেক। ক্ষমতার আসার পর তাদের এই দ্বিচারিতাপূর্ণ ভিন্ন রূপ এখন দেশের সাধারণ জনগণ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে,” বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ফেনী শহরের একটি কনভেনশন হলে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পার্লামেন্টে সমাধান না হলে রাজপথে নামব’
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রধান শরিক দল বিএনপির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন:
সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা: বিএনপি জুলাই সনদ না মেনে এবং গণভোটে প্রতিফলিত জনগণের রায় কার্যকর না করে গোটা জাতিকে এক নতুন সংঘাত ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সংসদে সমাধানের শেষ সুযোগ: আমরা এখনও মনে করি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি জাতীয় সংসদে আলোচনা করে সমাধান করার সুযোগ রয়েছে। আমরা আহ্বান জানাব, এখনও সময় আছে পার্লামেন্টে বসে এই রাজনৈতিক সংকট দূর করুন। অন্যথায় এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।
রক্তের ঋণ ভুলে যাচ্ছে সরকার: এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ তাজা প্রাণ আর বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে খুনি ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়—দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান সরকার সেই ত্যাগের কথা ভুলে যাচ্ছে।
‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন সর্বমন্ত্রী’
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নির্বাচিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অতি-সক্রিয়তা ও সব বিষয়ে মন্তব্য করা নিয়ে কটাক্ষ করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন:
“একজন ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের সব বিষয়ে একাই কথা বলেন, তবে অন্য মন্ত্রণালয় আর বাকি মন্ত্রীদের কাজ কী? তিনি তো আসলে শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন, এখন ‘সর্বমন্ত্রী’ হয়ে উঠেছেন।”
‘তিস্তা ব্যারাজের জন্য রক্ত বিক্রি করে টাকা দিতে প্রস্তুত জনগণ’
সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। দেশের চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলা বন্যায় ভাসছে। দুর্যোগে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হলো তা নিরূপণ করার চেয়ে এটি কীভাবে স্থায়ীভাবে মোকাবেলা করা যায়, সরকারকে সেই পথ খুঁজতে হবে। দুর্যোগ মোকাবেলায় শুধু সরকারি দলের লোক নয়; বরং বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক শক্তি ও অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা দরকার।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “উত্তরবঙ্গের মানুষের অধিকার রক্ষায় তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করতে দেশের প্রতিটি মানুষ প্রয়োজনে নিজের রক্ত বিক্রি করে টাকা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।”
সরকারের সমালোচনা করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “এই সরকারের কাছে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী জনগণের যে সুনির্দিষ্ট আকাঙ্ক্ষা ছিল, তারা তার সাথে বারবার বেইমানি করছে। তারা গণরায় নিয়ে কোনো কথা বলছে না, এমনকি তারা নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফাও লঙ্ঘন করেছেন।”
ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি মাওলানা আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন—জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য লিয়াকত আলী ভূঁঞা, এসএম কামাল উদ্দীন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর সহ-সেক্রেটারি ফখরুদ্দীন মানিকসহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।









