শিরোনাম:
বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ: হাইকোর্ট

ফাইল ছবি
০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৯
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি খবর
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য পদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে তাঁর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল চূড়ান্ত ঘোষণা করে রায় দেন।
আদালতে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ প্রেক্ষাপট
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নেন সারোয়ার আলমগীর। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের আবেদনের জেরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়, যার ফলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁর ফলাফল সরকারিভাবে প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছিল।
সারোয়ার আলমগীরের আইনি লড়াইয়ের মূল সময়রেখা নিচে তুলে ধরা হলো:
হাইকোর্টের সবুজ সংকেত
২৭ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে সারোয়ার আলমগীরের দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একই সঙ্গে তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং 'ধানের শীষ' প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) করেন একই আসনের জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। আপিল বিভাগ আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন যে, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
নিয়মিত আপিল দায়ের
৩১ মার্চ ২০২৬
লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর ৩১ মার্চ জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন আপিল বিভাগে নিয়মিত আপিল দায়ের করেন।
হাইকোর্টকে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ
১৬ জুন ২০২৬
নিয়মিত আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তা নিষ্পত্তি করেন। সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টকে দ্রুত (সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে) রুলটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিতের আগের আদেশ বহাল রাখেন।
চূড়ান্ত শুনানি ও রায়
৯ জুলাই ২০২৬
আপিল বিভাগের নির্দেশনা মেনে ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রিটটি শুনানির জন্য ওঠে। ধারাবাহিক শুনানি শেষে আজ ৯ জুলাই হাইকোর্ট সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা সম্পূর্ণ বৈধ বলে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
ফটিকছড়ির রাজনীতিতে স্বস্তি
এই রায়ের মাধ্যমে ফটিকছড়ি আসনের নির্বাচনী ফলাফলের দীর্ঘ আইনি জট কেটে গেল। ফটিকছড়ি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন এখন সারোয়ার আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ ও তাঁর শপথ গ্রহণের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে পারবে।









