শিরোনাম:
হোটেলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বরখাস্ত

ফাইল ছবি
০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০১
নিউজ ডেস্ক
হোটেলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত ও কারাভোগের ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তিনি বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বাছির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।
মামলার পটভূমি ও আইনি ব্যবস্থা
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে তিনি জেলহাজতে ছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৩৯(২) ধারা এবং ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন’-এর ৪৪(৬) ধারা অনুযায়ী শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামকে বিগত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশটিতে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বিয়ে ভেঙে যাওয়া ও হোটেলে নির্যাতন-ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় অবস্থানকালে এক তরুণীর সঙ্গে শিক্ষক শফিকুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ের আলোচনা চূড়ান্ত হয়। তবে পরবর্তীতে কোনো কারণে বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি ওই নারীকে মোহাম্মদপুরে তাঁর বাসায় ডেকে এনে শারীরিক নির্যাতন ও মারধর করেন।
পরবর্তীতে তিনি ওই নারীকে পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা দাখিলকৃত এজাহারে প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও অভিযোগকারীর বক্তব্য
ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ড. আব্দুল আলিম বাছির জানান:
“বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধি-বিধান অনুযায়ী যা আইনি প্রক্রিয়া, সেটাই অনুসরণ করা হয়েছে। বিষয়টি একটি ফৌজদারি মামলা হওয়ায় তা আদালতের বিচারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দেখবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির শৃঙ্খলা ও সুনামের সঙ্গে এটি কতটুকু সংগতিপূর্ণ, সেটি নিশ্চিত করতেই আইন অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”
এদিকে মামলার বর্তমান স্থিতি ও সার্বিক বিষয়ে জানতে অভিযোগকারী নারীটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি আদালত ও থানায় চিকিৎসাধীন ও চলমান থাকায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।




