শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

খুবির ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে মিলল টিকটিকি: ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

ফাইল ছবি

০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮

নিউজ ডেস্ক

facebook sharing button
twitter sharing button
sharethis sharing button
whatsapp sharing button

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে মরা টিকটিকি পাওয়ার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। রান্না করা তরকারিতে টিকটিকি পাওয়ার সেই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ক্যাফেটেরিয়া থেকে কেনা সবজি ও ডিমের তরকারির মধ্যে এই টিকটিকিটি পাওয়া যায় বলে দাবি করেন এক শিক্ষার্থী।

ঘটনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগকারী শিক্ষা ডিসিপ্লিনের ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসমাউল হুসনা জানান, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ক্যাফেটেরিয়া থেকে দুপুরের খাবার কিনে নিজ রুমে নিয়ে যান। পরে খেতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পটল-আলু ও ডিম দিয়ে রান্না করা সবজির মধ্যে একটি আস্ত মরা টিকটিকি ভাসছে।

খাবারে টিকটিকি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্যাফেটেরিয়ার নিম্নমানের খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বাংলা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাহেবী ইকরাম রেদোয়ান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন:

“ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে টিকটিকি পাওয়া যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কর্মীদের চরম অব্যবস্থাপনা ও অসচেতনতার প্রমাণ। এ ধরনের অবহেলা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ও কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”

একই বর্ষের শিক্ষার্থী তানভির বিন মুহিত বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। যাদের গাফিলতির কারণে খাবারে টিকটিকি পাওয়া গেছে, তাদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

ক্যাফেটেরিয়া ম্যানেজার ও প্রশাসনের বক্তব্য
খাবারে টিকটিকি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ক্যাফেটেরিয়ার ম্যানেজার। তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা সবসময় সর্বোচ্চ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা করি। রান্নার সময় যদি এটি পড়ে থাকত, তবে আগুনের তাপে তা গলে যাওয়ার কথা ছিল; কারণ টিকটিকির শরীর নরম থাকে। ঘটনাটি কীভাবে বা কার ভুলবশত ঘটেছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”

তবে বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই তাঁর দপ্তরকে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্যাফেটেরিয়া তদারকি কমিটি এবং পরিচালনাকারীদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।