শিরোনাম:
‘আমার ইসলামে প্রবেশকে কটাক্ষ করে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকে’

ফাইল ছবি
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৬
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি খবর
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, ইসলামে তাঁর সচেতনভাবে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে অনেকে কটাক্ষ করে তাঁকে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন এবং ইসলামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব অনুধাবনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন সামান্তা শারমিন।
পোস্টে তিনি বলেন, মুসলিম হিসেবে কী করণীয়, তা জনপ্রিয়তাভিত্তিক ওয়াজ থেকে সব সময় জানা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রত্যেকেরই অল্প অল্প করে হলেও নিজের ইসলামি জ্ঞান সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহর ইচ্ছা ও নিয়ত ঠিক থাকলে অল্প পরিশ্রমেও অধিক বরকত পাওয়া সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের ইসলামি জ্ঞান অর্জনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সামান্তা শারমিন লেখেন, আরবি না জানা এবং মাদ্রাসা বা অন্য কোনো ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আগে থেকে ইসলামি জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বয়সের কারণেও এ কাজ আরও কঠিন বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, সম্প্রতি একটি পডকাস্টে সময়োপযোগী আলোচনা শুনেছেন। এর শুরুর দিক ও শেষ অংশে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসায় সেটি আবার শোনা এবং অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন বলে তাঁর মনে হয়েছে।
সামান্তা শারমিনের ভাষ্য, ইসলামে তাঁর সচেতনভাবে প্রবেশকে কটাক্ষ করে অনেকে তাঁকে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ইসলাম ও ইসলাম পালনকারীদের প্রতি মানুষের মধ্যে এত বিদ্বেষ কেন, তা নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এ নিয়ে আড়ালে আলোচনা হলেও সরাসরি কথা বলতে কাউকে দেখেননি।
সামাজিক চাপের কারণে ইসলাম ও এর জ্ঞান-ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা কমিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ছোটবেলায় পড়া ধর্মশিক্ষার বই বা সহজলভ্য কোনো বইয়ের বক্তব্যকে সরাসরি আল্লাহ ও নবী-রাসুলদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। বরং ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য দীর্ঘ অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ইসলামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেত্রী। তাঁর মতে, বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে সেগুলোকে ইসলামের নিজস্ব সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এর পেছনে রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্যান্য বিষয়ও জড়িত।
দেশের ইসলামি বইমেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সামান্তা শারমিন লেখেন, মুসলিম হওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই নতুন বইয়ের সন্ধানে বইমেলায় যান, কিন্তু প্রত্যাশিত নতুন বই পাননি। অথচ বিশ্বজুড়ে মুসলিম ও অমুসলিম গবেষকেরা ইসলাম নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করছেন। সেই গবেষণার সামান্য অংশও দেশের বইমেলায় পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকেও নতুন জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সীমিত বলে মত দেন তিনি।
ইসলামি বইমেলার বইয়ের প্রশংসা করা কয়েকজন রাজনীতিবিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু ইসলামপন্থী আবহ তৈরির জন্য প্রশংসা না করে ইসলামি বইয়ের জগতে দেশের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল। তাঁর মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা ইসলামের জ্ঞানচর্চায় কার্যকর অবদান রাখে না।
পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের ইসলাম সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন সামান্তা শারমিন। তাঁর মতে, অনেকে কোরআন না পড়েও ইসলাম সম্পর্কে ঢালাও মন্তব্য করেন, যা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে নারীদের অবস্থান নিয়ে করা কিছু মন্তব্যের উদাহরণ দেন।
পোস্টের শেষে মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করে সামান্তা শারমিন লেখেন, আল্লাহ যেন মুসলিমদের আত্মবিশ্বাসী রাখেন এবং সিরাতুল মুস্তাকিমে চলার তৌফিক দেন।









