রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় নির্বাচন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এনসিপিকে আর অর্থ দেবে না বলেও ‘শোনা যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব দাবি করেন।

পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জামায়াতের কাছ থেকে নেওয়া ওই অর্থ পরিশোধের জন্য এনসিপিকে এখন ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ চালু করতে হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এনসিপিকে আর অর্থ দেবে না বলেও তিনি ‘শোনা যাচ্ছে’ বলে উল্লেখ করেন।

অতীতে বন্যার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন গণভিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল দাবি করে রাশেদ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহে এনসিপি আবারও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গণভিক্ষা কার্যক্রমে জোর দেবে। এনসিপি এককভাবে স্থানীয় নির্বাচন করলে তাদের গণভিক্ষা তহবিলে তিনি ১ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করে দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির নেতাদের সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি দলটির নেতাদের আলিশান কার্যালয় ও ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া এবং তাদের ‘জমিদারি ভাবসাব’ নিয়ে চলাফেরার অর্থের উৎস জানতে চান। একটি গণঅভ্যুত্থান এনসিপির ‘এক ডজন নেতার জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানার একটি পুরোনো বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৮ মাসে এনসিপির নেতারা ‘লাগামহীন দুর্নীতি’ করে অর্থনৈতিকভাবে কতটা পরিবর্তিত হয়েছেন।

বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং এনসিপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় আন্দোলন করলেও সেই সময়ে হাসনাত আব্দুল্লাহদের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে নাহিদ ইসলামদের ওপর জনগণের আস্থা থাকলে তারা কেন ক্ষমতায় আসতে পারেননি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ। তাঁর দাবি, বিএনপি এনসিপিকে জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী দল বানাতে রাজি না হওয়ায় এনসিপি জামায়াতের জোটে গেছে। এতে জামায়াত উপকৃত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া ক্ষমতার জন্য এনসিপি অল্প বয়সেই ‘ধান্ধাবাজ দলে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। অন্তর্বর্তী সরকার আরও কয়েক বছর ক্ষমতায় থাকলে এনসিপির নেতারা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে যেতেন—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের এসব অভিযোগের বিষয়ে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ১০০ কোটি টাকা লেনদেনের দাবিটির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।