মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দলটির ৩৪ জন সংসদ সদস্য (এমপি) মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইন সফর করছেন। ১৭ দিনের এই সফরে এমপিদের পরিবারের সদস্য, দলের কয়েকজন নেতা ও একজন লেখকসহ মোট ৭১ জন রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সফর পূর্বনির্ধারিত এবং দলের পরিকল্পনার অংশ। সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে সংসদ সদস্যদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সফরকারীরা।

জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ এমপির মধ্যে ২৫ থেকে ২৬ জন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সফরে গেছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক এমপি ও সম্প্রতি জামায়াতে যোগ দেওয়া মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান এবং লেখক জিয়াউল হক।

সফরকারীরা ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর দুই দফায় মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সেখানে তিন দিন অবস্থানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে যান। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনে পৌঁছান। ২৪ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইন থেকে বাহরাইনে যাত্রাবিরতি দিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের। ওমরাহ শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।

মালয়েশিয়ায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

মালয়েশিয়ায় সফরের সময় দেশটির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কেদিলান রাকাইয়াতের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসজলি মালিকের সঙ্গে জামায়াতের এমপিদের সাক্ষাৎ হয়। মাসজলি মালিক ১৭ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ বৈঠকের কথা জানান।

তার পোস্ট অনুযায়ী, বৈঠকে বিশ্বজুড়ে সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা, সততা, জবাবদিহি এবং জনগণের কথা শোনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াতের সূত্র বলছে, মাসজলি মালিক নিজ উদ্যোগে এমপিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সফরকারীরা কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার ও ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন স্থানও পরিদর্শন করেন।

সিঙ্গাপুরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন ও সিম্পোজিয়াম

১৭ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে পৌঁছে জামায়াতের এমপিরা নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন। সেখানে তাঁরা একটি সিম্পোজিয়ামেও অংশ নেন। সিঙ্গাপুরের বর্তমান উন্নয়ন ও দেশটির এই পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

সিঙ্গাপুরের পর সফরকারীরা ফিলিপাইনে পৌঁছান। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

‘প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি’ বলছে জামায়াত

সফরকারী দলের সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াতের আমিরের অনুমতি নিয়েই এমপিরা বিদেশ সফরে গেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক এমপি আগে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাননি। বিভিন্ন দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়াই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সফরকারী সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, সফরের পরিকল্পনা আগে করা হলেও সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের কারণে তা পিছিয়ে যায়। তাঁর ভাষ্য, অনেক এমপি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করার লক্ষ্যেই এই সফর। তিনি এটিকে একধরনের প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সফরকারী কয়েকজন সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো রাজনৈতিক সফর নয়। তবে মালয়েশিয়ায় সরকারি ও বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে। পূর্বপরিচিতি ও সাংগঠনিক যোগাযোগের সূত্র ধরে এসব সাক্ষাৎ হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সফরে বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক দল, ইসলামপন্থী দল এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক দলের চ্যালেঞ্জ, সংসদীয় আচরণ, এমপিদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া সেলের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এর আগেও সদস্যরা বিদেশ সফর করেছেন। এবারের সফরও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, তবে এবার বিশেষভাবে সংসদ সদস্যদের জন্য এটি পরিকল্পনা করা হয়েছে।