শিরোনাম:
সংবিধান সংস্কারে ৭ দফা দাবি ১১ দলীয় ঐক্যের

ফাইল ছবি
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি খবর
সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে সাত দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্কার।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে গুরুত্ব দিতে হবে। গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিকল্প কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানায় জোটটি।
সাত দফা দাবি
১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তাবিত সাত দফা হলো—
১. সংবিধান সংস্কার।
২. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এবং ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন।
৩. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ।
৪. একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ।
৫. নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার।
৬. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
৭. বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার।
লিখিত বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্য দাবি করে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর অনেকগুলো রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং শাসনব্যবস্থার মৌলিক বিন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে সাধারণ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে এসব পরিবর্তনের উদ্যোগ সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করে তারা।
জোটটির বক্তব্য, জাতীয় সংসদ সংবিধান দ্বারা সৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জনগণই চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু নির্দিষ্ট কিছু সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে মত দেননি; কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়েও মতামত দিয়েছেন।
এ কারণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিষদকে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সরাসরি গণভোটে প্রকাশিত সর্বোচ্চ ইচ্ছাকে সাধারণ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনৈতিক ইচ্ছার অধীন করা যায় না। গণতন্ত্রের মৌলিক দাবি হলো গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখানো।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্য আরও জানায়, গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ তারা প্রত্যাখ্যান করছে। একই সঙ্গে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও গাঠনিক ক্ষমতার মর্যাদা রক্ষা এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানায় তারা।









