শিরোনাম:
আগামী সপ্তাহে ৭ জেলায় বন্যার আভাস: পানিবন্দি হতে পারে উত্তরাঞ্চল

ফাইল ছবি
১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ ও জলবায়ু খবর
দেশে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক পাহাড়ধসে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলা ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন ধরে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও, আগামী সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চলে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
১৯-২৩ জুলাইয়ের মধ্যে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির শঙ্কা
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী সময়ে (১৯ থেকে ২৩ জুলাই) উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর,ガイবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সতর্কসীমায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা
উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি যমুনা অববাহিকাতেও পানি বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলো আকস্মিকভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থিতিশীল সিলেট ও সুনামগঞ্জের পরিস্থিতি
উত্তরাঞ্চলে বন্যার নতুন শঙ্কা তৈরি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে পরিস্থিতির অবনতি না হলেও পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের এই পূর্বাভাসকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



