শিরোনাম:
চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলাই রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি
১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য খবর
রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক, সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা, একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণও নিশ্চিত করতে হবে।”
আজ শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
‘চিকিৎসা শুধু চাকরি নয়, এটি মহান সেবা’
চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসকের এই পেশা শুধু একটি সাধারণ চাকরি নয়, এটি মানুষের জীবনের জন্য নিবেদিত একটি মহান সেবা। মানুষ যখন সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন সৃষ্টিকর্তার পর সবচেয়ে বেশি ভরসা করে একজন চিকিৎসকের ওপর।”
তিনি চিকিৎসকদের নৈতিকতার ওপর জোর দিয়ে আরও বলেন:
মেডিকেল এথিকস: চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও মোরাল এথিকস (নৈতিকতা) আরও শক্তিশালী করতে হবে।
সহানুভূতিশীল আচরণ: রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। একজন চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর আরোগ্য লাভে ইতিবাচক মানসিক প্রভাব ফেলে।
সংকটে অবদান: করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অসাধারণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। ছুটি উপেক্ষা করে তারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামে বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠে কাজ করার বিষয়টি চিকিৎসকদের প্রকৃত নৈতিকতার প্রমাণ।
গ্রামীণ ও শহরের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমানোর ঘোষণা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী এই খাতে রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি সরকারের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, “দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকেই এর উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমান মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ যেমন মানসম্মত সেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও সমান সেবার দাবিদার।
রেফারাল নেটওয়ার্ক ও ঢাকার ওপর চাপ কমানোর তাগিদ
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কোনো উপজেলাই এখন আর অবহেলিত গ্রাম নয়; সেখানে সব ধরনের আধুনিক নাগরিক সুবিধা পৌঁছে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের ‘রেফারাল নেটওয়ার্ক’ কার্যকর করতে চিকিৎসকদের অবশ্যই উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে সেবা দিতে হবে। এটি করা না গেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওপর থেকে রোগীদের অতিরিক্ত ও তীব্র চাপ কোনোভাবেই কমানো সম্ভব নয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন প্রাঞ্জল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ড্যাবের (DAB) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ চিকিৎসার্থীবৃন্দ।
