মির্জা ফখরুলের অবসরের ইঙ্গিত, আবেগঘন স্মৃতিচারণে মারুফ কামাল খান

ফাইল ছবি
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১২
নিউজ ডেস্ক
আজকের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় খবর
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ঘিরে ১২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পে ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৭৬ কোটি টাকা।
এ প্রকল্পে ব্যবহৃত বালু সরবরাহকে কেন্দ্র করে সরকারের বিপুল রাজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পকেটে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো দরপত্র ও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সাগর থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা ৯৪ পয়সা। তবে ড্রেজিং খরচ বাবদ ৪ টাকা ৫৬ পয়সা সরকারি কোষাগার থেকে ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হবে। ফলে বালু বিক্রি করে লাভ করবে ঠিকাদার, আর উত্তোলনের খরচ বহন করবে সরকার।
কীভাবে তৈরি হলো লোপাটের সুযোগ
মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ১০০ থেকে ১৪০ কোটি ঘনফুট বালুর প্রয়োজন। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এই বালু থেকে সরকারের অন্তত ৬৯৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সওজ প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ১৬ টাকা ৭০ পয়সা প্রস্তাব করেছিল। গণপূর্ত বিভাগও প্রায় একই হার নির্ধারণ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের হার ধরে ৬ টাকা ৯৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে কোনো টেন্ডার ছাড়াই ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’কে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ড্রেজিং খরচও সরকারি অর্থে বহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা থেকে প্রায় ৪৫৬ কোটি টাকার সুবিধা পেতে পারে ঠিকাদার।
কম রাজস্ব, বেশি লাভ
ড্রেজিং খরচ সরকার বহন করায় প্রতি ঘনফুটে সরকারি রাজস্বে জমা হবে মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সা। অথচ ‘উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে বালু উত্তোলনের প্রস্তাব দিয়ে প্রতি ঘনফুটে ৫ টাকা ৩৭ পয়সা রাজস্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবুও তাদের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
পরিবেশ ছাড়পত্র নেই
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনই করেনি। এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (EIA) ছাড়া বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই বলেও তিনি সতর্ক করেন।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত কমিটির মাধ্যমে বালুর দর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ঠিকাদার কত দামে বালু সরবরাহ করবে, সে বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
‘গোপন চুক্তি’র অভিযোগ
বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে, প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ আকবার হোসেন পাটোয়ারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৩০ থেকে ৩৩ কোটি ঘনফুট বালু সরবরাহের একটি গোপন চুক্তি করেছেন। যদিও প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে মাত্র ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুটের জন্য।
অভিযোগ রয়েছে, সরকার কম দামে বালু পেলেও প্রকল্পে বেশি দামে দেখানো হবে, যার ফলে শত শত কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বার্থ প্রশ্নে
বিশ্লেষকদের মতে, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং এটি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের সম্পদ লুটপাটের শামিল। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।









